একটি চিঠি ও অবাক্ত ভালবাসা !! পর্ব ২

একটি চিঠি ও অবাক্ত ভালবাসা !! পর্ব ১



চিঠিটি পরেই জুঁইকে জড়িয়ে ধরে ডুকরে কেঁদে উঠল রুমি চোখের কোনায় এক সাগর জলরাশি নিয়ে জুঁইকে বলল
ফারহানের মত ছেলে এমন পাগলামি করতে পারে আমি কখনোই কল্পনা করতে পারিনি ফারহান আমাকে এতো ভালোবাসে আমি কেন আরও আগে বুঝতে পারলাম না কেন... কেন... কেন...
ফারহানের যা কিছু হয়েছে সবকিছুর জন্য আমি দায়ী ! ফারহান তোমাকে আমি এই সুন্দর পৃথিবীতে আমাকে একা রেখে চলে যেতে দেবনা। তোমাকে কোমা থেকে ফিরিয়ে আনতে সকল বাবস্থা করব। প্রয়োজনে নিজের জীবন দিয়ে হলেও তোমাকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনব, ফারহান আমাকে ক্ষমা করে দিও ’’
কথাগুলো বলেই কেঁদে ফেলল রুমি জুঁই তার স্নেহ মাখা হাত রুমির মাথায় রেখে সান্ত্বনা দিতে দিতে বলল
স্যাররা বলেছে , ভয়ের কোন কারন নেই অনেক উঁচু থেকে পড়েছেল তাই মাথায় আঘাত লাগার সম্ভাবনা ছিল কিন্তু সিটিস্ক্যান তেমন কিছুই পাওা যায়নি প্রচণ্ড মানসিক চাপ আঘাতের কারনে এমনটি হতে পারে বলে ধারনা করছেন স্যাররা অতিশীঘ্রই ফারহানের জ্ঞান ফিরে আসবে বলে আশ্বস্ত করেছেন।
আগে যদি জানতাম ফারহান আমাকে চিঠিটা দিয়ে ফরেনসিক ডিপার্টমেন্টের ছাঁদ থেকে লাফ দিবে তাহলে কখনই আমি ওকে ছাঁদ থেকে লাফ দিতে দিতাম না ’’
বলেই কেঁদে ফেলল জুঁইও। কথাগুলো শুনেই ফারহানের উদ্দেশ্যে দৌড়ে গেল রুমি ফারহান এখন রাজশাহী মেডিকেল কলেজের আইসিইউতে অচেতন হয়ে আছে আইসিইউতে ঢুকেই ফারহানের পাঁশে বসে পরল রুমি ফারহানের দুই হাতকে নিজের হাতের মধ্যে নিয়ে চোখ দিয়ে অঝোর ধারাই বৃষ্টি ঝরাতে লাগল বুক ভরা আশা নিয়ে রুমি এখনও আইসিইউতে ফারহানের হাত ধরে বসে আছে ………………..
এই বুঝি ফারহানের জ্ঞান ফিরে আসবে ......................................

একটি চিঠি ও অবাক্ত ভালবাসা !! পর্ব ১


প্রীয়া,
অন্তিম ভালোবাসায় তোমাকে শেষবারের মত মাতিয়ে দিতে টুকটুকে লাল গোলাপের শুভেচ্ছা। এই শেষ চিঠিটি যখন তোমার হাতে, তখন আমি তোমাকে ছেড়ে অনেক দূরে ছলে এসেছি যেখান থেকে তোমাকে দেখতে আমার কোন বাঁধাই অতিক্রম করতে হয় না ! তোমাকে দুচোখ ভরে হয়তোবা দেখে যাচ্ছি
অবশেষে বুঝতে পারলাম, আমাদের পৃথিবীতে তোমাকে আমি কখনোই আপন করে পাব না ! আমার পৃথিবী, তোমাকে ছাড়া কখনোই পূর্ণতা লাভ করবে না ! এই শূন্য পৃথিবী আমাকে কুঁড়ে কুঁড়ে খাবে ! শূন্য পৃথিবীতে চলতে যে সাহসের প্রয়োজন হয় সেটা অনেক আগেই আমি তোমার মাঝে হারিয়ে ফেলেছি এই পৃথিবীতে চলতে গেলে সেই সাহসের খুবই প্রয়োজন তোমার ভালোবাসাই আমাকে পৃথিবীতে চলার সাহস যুগিয়েছিল ! কিন্তু সেই ভালবাসা তুমি আমাকে কখনোই দিবে না !
তুমি চেয়েছিলে যেন কখনোই তোমার ক্লাসম্যাটের সাথে তোমার কোন সম্পর্ক গড়ে না উঠে কিন্তু ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস, সেই তোমাকেই কিনা আমি আমার জীবনের থেকেও বেশী ভালোবেসে ফেললাম আমিও চাইনি কখনো কোন ক্লাসম্যাটের সাথে সম্পর্কে জড়িয়ে যেতে কিন্তু তোমার সরলতা, তোমার বন্ধুসুলভ আচরণ, তোমার মানসিক মানবিক ভাবনা আমার হৃদয়ে ধীরে ধীরে অজান্তেই জায়গা করে নিয়েছে
ক্লাসের ফাঁকে যখন দৃষ্টিগোচর হতে তখন মনের মাঝে এক অনাবিল সুখের অনুভূতি জাগ্রত হত কিন্তু তখনো আমি তোমাকে আমার মনের রাজ্যের রানী হিসাবে কল্পনা করতে ব্যর্থ হয়েছি তখনো আমি তোমাকে আমার জিবনসাথী রূপে কল্পনাই করতে পারিনি কিন্তু তখনো তুমি আমার হৃদয়ের মাঝে মিথোঃজীবি হয়ে বসে ছিলে
কিন্তু যেদিন তোমার সাথে আমার সবচেয়ে প্রিয় মানুষের দেখা হয়েছিল, সেদিন থেকেই সবকিছুর পরিবর্তন হতে শুরু করেছিল সেই প্রিয় মানুষের মুখে যেদিন তোমার মত একটি মেয়েকে বউ করার কথা শুনেছিলাম, সেদিন থেকেই আমার হৃদয়ে তোমাকে পাবার স্বপ্ন অঙ্কুরিত হতে শুরু করেছিলে অনেক চেষ্টা করেছি তোমার এই অঙ্কুরনকে বিনষ্ট করতে কিন্তু প্রতিবারই ব্যর্থ হয়েছি যতবার তোমাকে ভুলতে চেয়েছি ততবারই আমার হৃদয়ে ভেসে উঠেছ
নিজের হৃদয়ের সাথে যুদ্ধ করে ক্ষত-বিক্ষত হয়েছি কিন্তু তোমার নামটিকে হৃদয় থেকে মুছে ফেলতে অক্ষম হয়েছি অবশেষে নিজের সমস্ত জড়তাকে অতিক্রম করে তোমাকে আমার মনের কথা বলেছি কিন্তু তুমি স্বভাবসুলভ ভাবে এড়িয়ে গিয়েছ তুমি বলেছিলে কখনোই কোন ক্লাসম্যাটের সাথে প্রণয়ে আবদ্ধ হবে না তোমার পরিবার থেকে যে ছেলেকে তোমার জন্য মনোনীত করবে তাকেই তুমি জিবনসাথী রূপে গ্রহন করবে একথা শোনার পরে তোমার প্রতি আমার হৃদয়ের টান আরো বৃদ্ধি পেয়েছিল
ভেবেছিলাম তুমি আমাকে ভালো না বাসলেও আমি তোমাকে সারাজীবন ভালোবেসে কাটিয়ে দেব ! এমনিভাবেই দিন কেটে যাচ্ছিল তোমার বিষয়ে খোঁজ খবর রাখতাম নিয়মিত এখন রাখি এভাবে তোমার প্রতি আমার দুর্বলতা ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে এভাবে অনেকদিন অতিবাহিত হলে তোমার তোমার প্রতি আমি সম্পূর্ণরূপে দুর্বল হয়ে পড়ি কিন্তু আমার প্রতি তোমার মনোভাবের সামান্যতম পরিবর্তন হয় না !
জীবন আরো কঠিন থেকে কঠিনতর হয়ে উঠে এভাবে আর বাঁচতে ইচ্ছে করে না ! তোমাকে ছাড়া আমার দুনিয়া আজ অর্থহীন ! সেই অর্থহীন দুনিয়াই বেঁচে থেকে কি লাভ বল ?? সেই অর্থহীন দুনিয়া ছেড়ে তাই আমি চলে যাচ্ছি না ফেরার দেশে ! জানি না আমার মৃত্যুর পর তোমার হৃদয়ে আমার স্থান হবে কিনা !! যদি তোমার হৃদয়ে আমার জন্য অনুপরিমাণও স্থান হয় তাহলেই আমার ভালোবাসা পুরো সার্থক হবে
আমার কথা ভেবে কষ্ট পাবে না, তুমি কষ্ট পেলে আমি মৃত্যুর পরও শান্তি পাব না তোমার চোখের জলের মূল্য অনেক আমার কাছে সেই মূল্যবান জলকে আমায় ভেবে সকলের দৃষ্টিগোচর হতে দিও না। তুমি সুখে থাকলেই আমার এই ব্যর্থ জীবন সার্থক হবে সুখে থেকো তুমি চিরদিন ............... আল্লাহ হাফেয
ইতি
তোমার ব্যর্থ ভালোবাসা ‘’

 একটি চিঠি ও অবাক্ত ভালবাসা !! পর্ব ২