ব্রেইন টিউমারের ( আজ থেকে এক বছর আগে, ডায়াগনোসিস) বাচ্চাটির হাইড্রোকেফালাস হয়ে গিয়েছে.... ভর্তি হয়েছে কিছুদিন আগে বমি ও অত্যাধিক শ্বাসপ্রশ্বাসের সমস্যা নিয়ে... খুবই খারাপ অবস্থা, সাপোর্টিভ ট্রিটমেন্ট ছাড়া এই মুহুর্তে কিছুই করার নেই...
কিছুক্ষণ আগে (দুপুর আড়াইটাই) সন্ধ্যাকালীন ডিউটিতে ওয়ার্ডে আসলাম.... কিছুক্ষণ পরেই, বাচ্চাটির লোকজন রুমে এসে, কাঁদো কাঁদো ভাবে বলল, "ডাক্তার আসেন, আমাদের রুগী মনে হয়, আর বেঁচে নেই"
দৌড়ালাম বাচ্চাটির কাছে... বাচ্চার বুকে স্টেথোস্কোপ বসিয়ে কোন হার্টবিট পেলাম না... সাভাবিক ভাবেই ধরে নিলাম বাচ্চাটি মারা গেছে...একটু ভয় পেয়ে গেলাম...
রিক্সস নিব কিনা ভাবতে ছিলাম, এখন ইমাজেন্সি কোন ট্রিটমেন্ট দেয়ার পরেও বাচ্চাটি ফিরে না আসলেও, সবদোষ আমার হবে.... তবুও রিক্সস নিয়েই নিলাম....
১। ওরাল সাকশন দিলাম (অক্সিজেন আগে থেকেই চলতে ছিল)
২। আম্বু ভেন্টিলেশন দিলাম...
৩। সিপিআর দিলাম (২/৩ মিনিট)
এবার পুনরায় স্টেথোস্কোপ বুকে বসালাম, আলহামদুলিল্লাহ, এবার বাচ্চাটির হার্টবিট শুনতে পেলাম... আরো শুনতে পেলাম severe Ronchi...
৪। এবার নেবুলাইজেশন দিলাম... ডেক্সামিথাসন ইঞ্জেকশন দিব কিনা ভাবতে লাগলাম (যদিও এটা দেয়া উচিত).... কেননা এটা দেয়ার পরে বাচ্চা মারা গেলে (যদিও এই বাচ্চার বাঁচার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে, হয়তোবা কয়েকমিনিট বা কয়েকঘন্টা বা কয়েকদিনের মধ্যেই মারা যাওয়ার কথা) , কাল পত্রিকায় শিরোনাম হবে, "ডাক্তারের ইঞ্জেকশনে বাচ্চার মৃত্যু"
এবার রুগীর লোকজনকে বললাম, "আপনার বাচ্চাকে একটা ইঞ্জেকশন দিতে চাচ্ছি কিন্তু সিকিউরিটির ভয়ে দিতে পারছি না... দেখা যাচ্ছে এটা দেয়ার পর, মারা গেলে, আপনারাই এখন বলবেন, ডাক্তার ইঞ্জেকশন দেয়ার পরেই রুগী মারা গেছে। সাংবাদিকরা লিখে দিবে, ভুল চিকিৎসায় রুগীর মৃত্যু"
যাইহোক রুগীর লোকজনকে বুঝিয়ে ইঞ্জেকশনটা দিয়ে দিলাম.... আলহামদুলিল্লাহ, এই যাত্রায় বাচ্চাটি মৃত্যুর পথে ঢুকতে গিয়ে দাঁড়িয়ে গেল, সাময়িক ভাবে... এখনো বাচ্চাটি বেঁচে আছে...
বিদ্রঃ
লক্ষ্য করেছেন, সঠিক চিকিৎসা দেয়ার আগেই আমাকে কত কিছু ভাবতে হল??? আর এই এতো কিছু আমাকে কেন ভাবতে হল, জানেন???? আমিই বলে দিচ্ছি, কারন.....
ডাক্তারদের বিরুদ্ধে সংবাদ মাধ্যমের ক্রমাগত নেতিবাচক মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ, আমাকে এগুলো ভাবতে বাধ্য করেছে....
বুঝতে পারলেন কি, ক্রমাগত মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করলে, সংবাদমাধ্যমের TRP বৃদ্ধি পাবে ঠিকই কিন্তু রুগীরা সঠিক চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হতে থাকবে....