নিপা ভাইরাস - গঠন, রোগের লক্ষণ, প্রতিরোধ ও চিকিৎসা

নিপা ভাইরাস


হেনিপা ভাইরাস (Henipavirus) প্যারামিক্সো ভাইরাসমূহের একটি গণ যা প্যারামিক্সোভিরিডি (Paramyxoviridae) গোত্রের মনোনেগাভিরালিস (Mononegavirales) বর্গের অন্তর্গত। এই গোত্রের ২টি সদস্যের নাম হচ্ছে- হেন্ড্রাভাইরাস এবং নিপাহ ভাইরাস।

তোর হাতটি ধরে










তোর হাতটি ধরে বেচে থাকার স্বপ্ন দেখি
তোকে পাশে রেখে সামনে এগিয়ে চলি
তোর প্রেমে পাগল আমি, ছুটে চলে আসি
চোখের ভাষায় ভালোবাসা খুজে ফিরি ।
তোর হাতটি ধরে বেচে থাকার স্বপ্ন দেখি
তোকে পাশে রেখে সামনে এগিয়ে চলি
তোর প্রেমে পাগল আমি, ছুটে চলে আসি
চোখের ভাষায় ভালোবাসা খুজে ফিরি ।


হৃদয়ের প্রতিটি কোণে, চোখেরই মণিকোঠাতে
তোর জাগানো প্রেম, জেগে উঠে বারে বার
তোকে পেয়ে হায় জীবনের অর্থ খুজে পায়
তোর ভালবাসাতে সিক্ত হয়ে যায়

তোর ঠোটের হাসিতে... খুসিতে আমার প্রাণটি নাচে
তোর চোখের মায়াতে... প্রেম জেগে উঠে হৃদয়ে
তোর নুপুরের তালে তালে... ক্লান্তি ভূলে চলি
পথের শেষে তোর ভালোবাসার প্রতিচ্ছবি দেখি।


তোর মনের সাথে হৃদয় মিশে
স্বপ্ন বুনে যায় গহীন অরন্যে
ভালবেসে হারায় আমি তোর...ই মাঝে
তোর হাতটি ধরে বেচে থাকার স্বপ্ন দেখি
তোকে পাশে রেখে সামনে এগিয়ে চলি।


একটি চিঠি ও অবাক্ত ভালবাসা !! পর্ব ২

একটি চিঠি ও অবাক্ত ভালবাসা !! পর্ব ১



চিঠিটি পরেই জুঁইকে জড়িয়ে ধরে ডুকরে কেঁদে উঠল রুমি চোখের কোনায় এক সাগর জলরাশি নিয়ে জুঁইকে বলল
ফারহানের মত ছেলে এমন পাগলামি করতে পারে আমি কখনোই কল্পনা করতে পারিনি ফারহান আমাকে এতো ভালোবাসে আমি কেন আরও আগে বুঝতে পারলাম না কেন... কেন... কেন...
ফারহানের যা কিছু হয়েছে সবকিছুর জন্য আমি দায়ী ! ফারহান তোমাকে আমি এই সুন্দর পৃথিবীতে আমাকে একা রেখে চলে যেতে দেবনা। তোমাকে কোমা থেকে ফিরিয়ে আনতে সকল বাবস্থা করব। প্রয়োজনে নিজের জীবন দিয়ে হলেও তোমাকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনব, ফারহান আমাকে ক্ষমা করে দিও ’’
কথাগুলো বলেই কেঁদে ফেলল রুমি জুঁই তার স্নেহ মাখা হাত রুমির মাথায় রেখে সান্ত্বনা দিতে দিতে বলল
স্যাররা বলেছে , ভয়ের কোন কারন নেই অনেক উঁচু থেকে পড়েছেল তাই মাথায় আঘাত লাগার সম্ভাবনা ছিল কিন্তু সিটিস্ক্যান তেমন কিছুই পাওা যায়নি প্রচণ্ড মানসিক চাপ আঘাতের কারনে এমনটি হতে পারে বলে ধারনা করছেন স্যাররা অতিশীঘ্রই ফারহানের জ্ঞান ফিরে আসবে বলে আশ্বস্ত করেছেন।
আগে যদি জানতাম ফারহান আমাকে চিঠিটা দিয়ে ফরেনসিক ডিপার্টমেন্টের ছাঁদ থেকে লাফ দিবে তাহলে কখনই আমি ওকে ছাঁদ থেকে লাফ দিতে দিতাম না ’’
বলেই কেঁদে ফেলল জুঁইও। কথাগুলো শুনেই ফারহানের উদ্দেশ্যে দৌড়ে গেল রুমি ফারহান এখন রাজশাহী মেডিকেল কলেজের আইসিইউতে অচেতন হয়ে আছে আইসিইউতে ঢুকেই ফারহানের পাঁশে বসে পরল রুমি ফারহানের দুই হাতকে নিজের হাতের মধ্যে নিয়ে চোখ দিয়ে অঝোর ধারাই বৃষ্টি ঝরাতে লাগল বুক ভরা আশা নিয়ে রুমি এখনও আইসিইউতে ফারহানের হাত ধরে বসে আছে ………………..
এই বুঝি ফারহানের জ্ঞান ফিরে আসবে ......................................

একটি চিঠি ও অবাক্ত ভালবাসা !! পর্ব ১


প্রীয়া,
অন্তিম ভালোবাসায় তোমাকে শেষবারের মত মাতিয়ে দিতে টুকটুকে লাল গোলাপের শুভেচ্ছা। এই শেষ চিঠিটি যখন তোমার হাতে, তখন আমি তোমাকে ছেড়ে অনেক দূরে ছলে এসেছি যেখান থেকে তোমাকে দেখতে আমার কোন বাঁধাই অতিক্রম করতে হয় না ! তোমাকে দুচোখ ভরে হয়তোবা দেখে যাচ্ছি
অবশেষে বুঝতে পারলাম, আমাদের পৃথিবীতে তোমাকে আমি কখনোই আপন করে পাব না ! আমার পৃথিবী, তোমাকে ছাড়া কখনোই পূর্ণতা লাভ করবে না ! এই শূন্য পৃথিবী আমাকে কুঁড়ে কুঁড়ে খাবে ! শূন্য পৃথিবীতে চলতে যে সাহসের প্রয়োজন হয় সেটা অনেক আগেই আমি তোমার মাঝে হারিয়ে ফেলেছি এই পৃথিবীতে চলতে গেলে সেই সাহসের খুবই প্রয়োজন তোমার ভালোবাসাই আমাকে পৃথিবীতে চলার সাহস যুগিয়েছিল ! কিন্তু সেই ভালবাসা তুমি আমাকে কখনোই দিবে না !
তুমি চেয়েছিলে যেন কখনোই তোমার ক্লাসম্যাটের সাথে তোমার কোন সম্পর্ক গড়ে না উঠে কিন্তু ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস, সেই তোমাকেই কিনা আমি আমার জীবনের থেকেও বেশী ভালোবেসে ফেললাম আমিও চাইনি কখনো কোন ক্লাসম্যাটের সাথে সম্পর্কে জড়িয়ে যেতে কিন্তু তোমার সরলতা, তোমার বন্ধুসুলভ আচরণ, তোমার মানসিক মানবিক ভাবনা আমার হৃদয়ে ধীরে ধীরে অজান্তেই জায়গা করে নিয়েছে
ক্লাসের ফাঁকে যখন দৃষ্টিগোচর হতে তখন মনের মাঝে এক অনাবিল সুখের অনুভূতি জাগ্রত হত কিন্তু তখনো আমি তোমাকে আমার মনের রাজ্যের রানী হিসাবে কল্পনা করতে ব্যর্থ হয়েছি তখনো আমি তোমাকে আমার জিবনসাথী রূপে কল্পনাই করতে পারিনি কিন্তু তখনো তুমি আমার হৃদয়ের মাঝে মিথোঃজীবি হয়ে বসে ছিলে
কিন্তু যেদিন তোমার সাথে আমার সবচেয়ে প্রিয় মানুষের দেখা হয়েছিল, সেদিন থেকেই সবকিছুর পরিবর্তন হতে শুরু করেছিল সেই প্রিয় মানুষের মুখে যেদিন তোমার মত একটি মেয়েকে বউ করার কথা শুনেছিলাম, সেদিন থেকেই আমার হৃদয়ে তোমাকে পাবার স্বপ্ন অঙ্কুরিত হতে শুরু করেছিলে অনেক চেষ্টা করেছি তোমার এই অঙ্কুরনকে বিনষ্ট করতে কিন্তু প্রতিবারই ব্যর্থ হয়েছি যতবার তোমাকে ভুলতে চেয়েছি ততবারই আমার হৃদয়ে ভেসে উঠেছ
নিজের হৃদয়ের সাথে যুদ্ধ করে ক্ষত-বিক্ষত হয়েছি কিন্তু তোমার নামটিকে হৃদয় থেকে মুছে ফেলতে অক্ষম হয়েছি অবশেষে নিজের সমস্ত জড়তাকে অতিক্রম করে তোমাকে আমার মনের কথা বলেছি কিন্তু তুমি স্বভাবসুলভ ভাবে এড়িয়ে গিয়েছ তুমি বলেছিলে কখনোই কোন ক্লাসম্যাটের সাথে প্রণয়ে আবদ্ধ হবে না তোমার পরিবার থেকে যে ছেলেকে তোমার জন্য মনোনীত করবে তাকেই তুমি জিবনসাথী রূপে গ্রহন করবে একথা শোনার পরে তোমার প্রতি আমার হৃদয়ের টান আরো বৃদ্ধি পেয়েছিল
ভেবেছিলাম তুমি আমাকে ভালো না বাসলেও আমি তোমাকে সারাজীবন ভালোবেসে কাটিয়ে দেব ! এমনিভাবেই দিন কেটে যাচ্ছিল তোমার বিষয়ে খোঁজ খবর রাখতাম নিয়মিত এখন রাখি এভাবে তোমার প্রতি আমার দুর্বলতা ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে এভাবে অনেকদিন অতিবাহিত হলে তোমার তোমার প্রতি আমি সম্পূর্ণরূপে দুর্বল হয়ে পড়ি কিন্তু আমার প্রতি তোমার মনোভাবের সামান্যতম পরিবর্তন হয় না !
জীবন আরো কঠিন থেকে কঠিনতর হয়ে উঠে এভাবে আর বাঁচতে ইচ্ছে করে না ! তোমাকে ছাড়া আমার দুনিয়া আজ অর্থহীন ! সেই অর্থহীন দুনিয়াই বেঁচে থেকে কি লাভ বল ?? সেই অর্থহীন দুনিয়া ছেড়ে তাই আমি চলে যাচ্ছি না ফেরার দেশে ! জানি না আমার মৃত্যুর পর তোমার হৃদয়ে আমার স্থান হবে কিনা !! যদি তোমার হৃদয়ে আমার জন্য অনুপরিমাণও স্থান হয় তাহলেই আমার ভালোবাসা পুরো সার্থক হবে
আমার কথা ভেবে কষ্ট পাবে না, তুমি কষ্ট পেলে আমি মৃত্যুর পরও শান্তি পাব না তোমার চোখের জলের মূল্য অনেক আমার কাছে সেই মূল্যবান জলকে আমায় ভেবে সকলের দৃষ্টিগোচর হতে দিও না। তুমি সুখে থাকলেই আমার এই ব্যর্থ জীবন সার্থক হবে সুখে থেকো তুমি চিরদিন ............... আল্লাহ হাফেয
ইতি
তোমার ব্যর্থ ভালোবাসা ‘’

 একটি চিঠি ও অবাক্ত ভালবাসা !! পর্ব ২

প্রেম বন্দি ব্লক লিস্টে!!


মেয়ে- মানুষের প্রোফাইল পিক দেখে ইনবক্সে কমেন্ট করা, আর সবকিছুকে একবারে লাইক করার মানে বুঝেন???
ছেলে- আসলে আমি ভাবিনি যে p.pic টা তোমার। আমিতো ভেবেছিলাম এটাও অন্যকারো হবে। প্রোফাইলেতো অনেকগুলো মেয়ের ছবি দেখলাম! একটার সাথে অন্যটার কোন মিল নেই! মানুষ ফেসবুক ব্যবহার করে একটু বিনোদনের জন্য,

মেয়ে তোমার হৃদয় পঠে













মেয়ে তোমার হৃদয় পঠে 
আমার ছবি ভেঁসে উঠে কি???? 
রাতের আধারে আমায় নিয়ে স্বপ্ন দেখ কি!!! 
আমার হৃদয়ে তোমার ছবি একে রেখেছি!
মেয়ে তোমার হৃদয় পঠে 
আমার ছবি ভেঁসে উঠে কি????? 

স্বপ্নে এসে মন কেড়েছ 
হৃদয়ে প্রেমের আগুন জ্বেলেছ 
সেই আগুনে মরি মরি হায় 
মেয়ে তোমায় ভালবেসে হয়েছি পাগলপ্রায় 

তোমার হাতে রেখে হাত 
চায় কাঁটাতে গহীন সারা রাত... 
মেয়ে তোমায় ভালবাসি, বুঝতে পার কি 
তোমায় ভেবে বেঁচে রয়েছি 
মেয়ে তোমার হৃদয় পটে 
আমার ছবি ভেঁসে উঠে কি!!!!

মিষ্টি মুখের দুষ্টু হাসি 
প্রাণ জুড়িয়ে দেয় 
ভ্রমর কালো নয়ন তোমার 
ক্ষনে ক্ষনে চায় 
মেয়ে তোমায় ভালবাসি বুঝতে পার কি 
এই হৃদয়ে তোমায় ভেবে 
বেঁচে রয়েছি.... বেঁচে রয়েছি.....

ভালবাসার প্রতিক্ষার অবসান


ঘুম থেকে উঠেই ড্রেসিংটেবিলের উপর রাখা একগুচ্ছ গোলাপের দিকে দৃষ্টি আটকিয়ে যায় নিশাতের!! নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছে না! ভাবছে মনে হয় স্বপ্ন দেখছে সে!! গায়ে চিমটি কেটে শিওর হয়ে নেয়!! না... এতো স্বপ্ন নয়..... এতো বাস্তব.....

এতো সুন্দর করে একগুচ্ছ গোলাপতো শুধু একজনই বাঁধতে পারে কিন্তু সেতো অনেক আগেই হারিয়ে গেছে!! হৃদয়ের মাঝে ধীরে ধীরে গড়ে উঠা স্বপ্নকে কাচের টুকরোর মতো ভেঙ্গে ছারখার করে দিয়েছে!! জীবনের আশার প্রদীপ এক নিমিষেই নিভিয়ে দিয়ে চলে গেছে অনেক দূরে!! যাকে মনে রাখার কারনে জীবনকে নতুনভাবে গড়ে নিতে ব্যর্থ হয়েছে!

কথাগুলো ভাবতে ভাবতেই ফুলের মাঝে থাকা এক টুকরো কাগজের দিকে চোখ আটকে যায় নিশাতের!! সেই পরিচিত হাতের লেখা...... একই ধরনের অভিব্যক্তি..... নিশি.....

"নিশি
তোমাকে কিভাবে সম্বোধন করব বুঝতে পারছি না! তোমাকে অভিবাধনের ভাষা অনেক আগেই হারিয়ে ফেলেছি!! নিজের মনের মাঝে গড়ে উঠা পাহাড়সম দুঃখে সবকিছু চাপা পড়ে আছে!! সেখান থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার কোন উপায় খুজে পাইনি!!

জানি না তোমার মনের মাঝে আমার জন্য ভালবাসার পরিবর্তে এখনো ক্ষোভ-অভিমান জমে আছে কিনা!! শুধু জানি আমাকে ভেবে ভেবে অনেক কষ্ট পেয়েছ!! আমাকে ভেবে ভেবে অঝোরে দুচোখের জল ফেলেছ!! আমাকে ভেবে বিনিদ্র রজনী পার করেছ!! ফোনের পর ফোন আর ম্যাসেজের পর ম্যাসেজ এর পরেও কোন সাড়া পাওনি!! শুধু অপেক্ষা আর অপেক্ষা!!

অথচ আমি অতি সহজেই তোমাকে ভুলে যেতে পারলাম.... এটাই তোমার বদ্ধমূল ধারণা হয়ে গড়ে উঠেছে!! কিন্তু বিশ্বাস কর.. তোমাকে ছাড়া আমার একমুহূর্তও সুখে কাটেনি!! হৃদয়ের প্রতিটি জায়গায় সর্বদা একমাত্র তোমার ছবিই ভেসে থাকত, এখনো ভেসে উঠে!!

রাতের বেলায় তোমার পাঠানো ম্যাসেজগুলো বার বার পড়েছি আর দুচোখ দিয়ে ঝর্নাধারা প্রবাহিত করেছি !! পূর্ণিমার চাঁদের আলোয় যখন চারিদিকে আলোকিত থাকত তখনো আমার মন অমাবস্যার গহীন অন্ধকারে ঢেকে থাকত!!
সেদিন তোমার সাথে দেখা করে রুমে এসে জানতে পারলাম, আমার বাবা খুব অসুস্থ!! বাসা থেকে আমাকে অনেকবার ফোন করেছে কিন্তু ফোন বন্ধ থাকায় আমার সাথে যোগাযোগ করতে ব্যর্থ হয়ে অবশেষে রুমমেটকে বাবার অসুস্থতার খবর জানিয়েছে!! সেই রাতেই আমি বাড়ির উদ্দেশ্যে চলে গিয়েছিলাম।

পরেরদিন ভোরে যখন পোঁছালাম তখন বাবার অবস্থা অনেক খারাপ! তার পাশে রাখা কাগজ দেখে বুঝতে পারলাম উনার হ্যার্ট এট্যাক হয়েছে! বাবা আমাকে অনেক ভালবাসে, আমিও বাবাকে নিজের জীবনের চেয়েও বেশী ভালবাসি, সম্মান করি! আমি আমার বাবার চোখের মণি!!

আমাকে দেখেই বাবা যেন সস্থি ফিরে পেল, অসুস্থ থেকে একদিনেই অনেকটা সুস্থ হয়ে উঠল! বিকেলে আমাকে কাছে ডেকে নিয়ে বলেছিল, তার অনেক দিনের ইচ্ছে আমার সাথে তার বন্ধুর মেয়ের বিয়ে দিবে! বন্ধুর মৃত্যুর সময় নাকি তিনি হাত ধরে কথা দিয়েছিলেন তাকে!!

কথাগুলো শুনে আমার মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়েছিল! একদিকে আমার হৃদয়ে গড়ে উঠা স্বপ্নের রানী, অন্যদিকে আমার প্রাণপ্রীয় বাবা!! পরিস্থিতি আমাকে বাধ্য করে তার সবকিছুকে মেনে নিতে!!

তুমিতো ভালভাবেই জানো একজন MI পেশেন্টের সুস্থ হওয়ার অন্যতম উপায় তাকে টেনশন ফ্রি রাখা!
আমি চেয়েছিলাম তোমার জীবনকে সুন্দর ও সুখি দেখতে! আমাকে ভেবে ভেবে তুমি যেন তোমার জীবনকে ধ্বংস করে না দাও এজন্যই সেদিন তোমার সাথে অনেক খারাপ ব্যাবহার করেছিলাম!! যদি পার ক্ষমা করে দিও!!

এরপরেও সর্বদা শুধু তোমাকেই ভাবতাম! তোমার সাথে কাটানো সুখের স্মৃতিগুলোকে আকড়ে ধরে বেচে থাকতাম!
 এভাবে কেটে যায় ২ বছর। একদিন শুনতে পেলাম বাবার সেই বন্ধুর মেয়েটি তার প্রেমিককে বিয়ে করেছে।
সেদিন নিজেকে অনেক ভাগ্যবান মনে হয়েছিল!! একজনকে হৃদয়ে স্থান দিয়ে অন্যজনের সাথে সারা জীবন অভিনয় করে যাওয়া থেকে মুক্তি পাওয়ার আনন্দ! হয়তো সেদিন তোমার কাছে ফিরে আসতে পারতাম কিন্তু সেদিন আমি তোমার ভালবাসাকে নতুনভাবে কলঙ্কিত করতে চায়নি!!

এরপরে কেটে গেছে আরও ৫টি বছর!! হঠাৎ একদিন BSMMU এর লাইব্রেরীতে তোমাকে দেখতে পায়! এক কলিগের কাছে জানতে পারি তুমিও আমার মতো এখানে ট্রেনিং করছ। কিন্তু শুনে অবাক হয় যে, তুমি তোমার প্রীয় মেডিসিনে চাঞ্চ পাওয়ার পরেও ভর্তি হওনি, ভর্তি হয়েছ আমার প্রীয় বিষয় সার্জারিতে!! যেমন আমি ভর্তি হয়েছি তোমার পছন্দের মেডিসিনে!! তার থেকেও বেশী অবাক হয়েছি, এখনো তুমি আমার মতো বিয়ে করনি, একথা শুনে!!

তোমাকে এভাবে দেখব কখনো কল্পনাও করতে পারিনি! তোমাকে এভাবে দেখার পর থেকে নিজেকে ধরে রাখতে পারিনি!! সেদিন সারা রাত শুধু তোমাকে নিয়ে ভেবেছি!! বিনিদ্র রজনী কাটিয়েছি! অনেক ভেবে আরেকটি সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছি! নতুন করে বাচার সিদ্ধান্ত, নতুন করে জীবন গড়ার সিদ্ধান্ত!

এভাবে ভালবেসে ধুকে ধুকে মরার চেয়ে আমরা কি পারিনা আমাদের জীবনকে সজীবতা দান করতে?? নতুন করে সবপ্ন দেখতে?? ভালবাসার পূর্নতা দিতে??? দুঃখের স্মৃতিগুলোকে মুছে ফেলতে??

সন্ধায় তোমার অপেক্ষায় রইলাম, যেখানে আমাদের প্রথম দেখা হয়েছিল! যেখানে আমাদের প্রেমের সূচনা হয়েছিল! যেখানে দুজন জীবনকে নতুন করে গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখেছিলাম!! যেখানে আমাদের সর্বশেষ দেখা হয়েছিল!!

অপেক্ষায় রইলাম তোমার আগমনের..... নতুন জীবনের ......

ইতি
তোমার তাসনিম"

চিঠিটি পড়েই নিশাতের চোখদিয়ে আনন্দ অশ্রু বইতে শুরু করেছে।

এ যেন জীবনে সমস্ত আশার প্রদীপ নিভে গিয়ে হটাৎ জ্বলে উঠা কোন সূর্য! আকস্মিক কোন অন্ধকার গুহা থেকে স্বপ্নপুরীতে পদার্পণ !!

পূর্ণিমার চাঁদের স্নিগ্ধ আলোয় আলোকিত চারিদিক। শহীদ মিনারের পাদদেশে বসে আছে নিশাত আর তাসনিম !
স্নিগ্ধ আলোর আভায় নিশাতের মায়াবী চেহারা আরো মনোহরণীয় হয়ে উঠছে । ঠোঁটের কোনে লেগে থাকা মিষ্টি হাসি হৃদয়ে আনন্দের জোয়ার সৃষ্টি করছে। হরিণের মতো মায়াবী চোখদুটির উপর তাসনিমের চোখ স্থীর হয়ে আছে। মাঝে মাঝে দক্ষিণা বাতাসে নিশাতের চুলগুলো উড়ছে।

বেদিতে রাখা নিশাতের হাত আকড়ে ধরে তাসনিম! দুজনের সারা শরীরে কেমন যেন এক অনুভূতির সৃষ্টি হয়! বুকের মাঝে জমে থাকা বরফ মুহূর্তেই উবে যায়! জেগে উঠে, সমস্ত দুঃখ ভুলে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার অদম্য বাসনা! দুজনের চোখে ভেসে উঠে নতুন স্বপ্ন!